وَٱلصَّـٰٓفَّـٰتِ صَفًّا
কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
Those drawn up in Ranks
سورة الصافات
182 আয়াত · মক্কী
وَٱلصَّـٰٓفَّـٰتِ صَفًّا
কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًا
অতঃপর (মেঘমালা) সুচারুরূপে পরিচালনাকারীদের,
فَٱلتَّـٰلِيَـٰتِ ذِكْرًا
আর উপদেশ গ্রন্থ (আসমানী কিতাব) তিলাওয়াতকারীদের;
إِنَّ إِلَـٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌ
নিশ্চয় তোমাদের ইলাহ এক;
رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَـٰرِقِ
তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং রব উদয়স্থলসমূহের।
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ
নিশ্চয় আমি কাছের আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি।
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَـٰنٍ مَّارِدٍ
আর প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে হিফাযত করেছি।
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ
তারা ঊর্ধ্বজগতের কিছু শুনতে পারে না, কারণ প্রত্যেক দিক থেকে তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড)।
دُحُورًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ
তাড়ানোর জন্য, আর তাদের জন্য আছে অব্যাহত আযাব।
إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ ثَاقِبٌ
তবে কেউ সন্তর্পণে কিছু শুনে নিলে তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড।
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَآ ۚ إِنَّا خَلَقْنَـٰهُم مِّن طِينٍ لَّازِبٍۭ
অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা’? নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ
বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছ আর ওরা বিদ্রূপ করছে।
وَإِذَا ذُكِّرُوا۟ لَا يَذْكُرُونَ
আর যখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা স্মরণ করে না।
وَإِذَا رَأَوْا۟ ءَايَةً يَسْتَسْخِرُونَ
আর যখন তারা কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
وَقَالُوٓا۟ إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
আর বলে, ‘এতো স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’!
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَـٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব’?
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ
‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও’?
قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ
বল, ‘হ্যাঁ, আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ
তা হবে কেবল এক আওয়াজ আর তৎক্ষণাৎ তারা দেখতে পাবে।
وَقَالُوا۟ يَـٰوَيْلَنَا هَـٰذَا يَوْمُ ٱلدِّينِ
আর তারা বলবে, ‘হায় আমাদের ধ্বংস, এ তো প্রতিদান দিবস’!
هَـٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ
এটি ফয়সালা করার দিন যা তোমরা অস্বীকার করতে।
۞ ٱحْشُرُوا۟ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ وَأَزْوَٰجَهُمْ وَمَا كَانُوا۟ يَعْبُدُونَ
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে।
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْجَحِيمِ
‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তাদেরকে আগুনের পথে নিয়ে যাও’।
وَقِفُوهُمْ ۖ إِنَّهُم مَّسْـُٔولُونَ
‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে’।
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’
بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ
বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
قَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ
তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।* * এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।
قَالُوا۟ بَل لَّمْ تَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ
জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, ‘বরং তোমরা তো মুমিন ছিলে না’।
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَـٰنٍۭ ۖ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَـٰغِينَ
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآ ۖ إِنَّا لَذَآئِقُونَ
‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)’।
فَأَغْوَيْنَـٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَـٰوِينَ
‘আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত’।
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
নিশ্চয় তারা সেদিন আযাবে অংশীদার হবে।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ
অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।
إِنَّهُمْ كَانُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ
তাদেরকে যখন বলা হত, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍۭ
আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’
بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ
বরং সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল।
إِنَّكُمْ لَذَآئِقُوا۟ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ
অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করবে।
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আর তোমরা যে আমল করতে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া;
أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ
তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিয্ক,
فَوَٰكِهُ ۖ وَهُم مُّكْرَمُونَ
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত,
فِى جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِيمِ
নি‘আমত-ভরা জান্নাতে,
عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَـٰبِلِينَ
মুখোমুখি পালঙ্কে।
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍۭ
তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র,
بَيْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشَّـٰرِبِينَ
সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ
তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু* এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। * غول অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
وَعِندَهُمْ قَـٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌ
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ
তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম।
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে।
قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌ
তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,
يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُصَدِّقِينَ
সে বলত, ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে’।
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَـٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ
‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে’?
قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ
আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?’
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِى سَوَآءِ ٱلْجَحِيمِ
অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ
সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে’।
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ
‘আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম’।
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ
(জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) ‘তাহলে আমরা কি আর মরব না’?
إِلَّا مَوْتَتَنَا ٱلْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না’?
إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ
‘নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!’
لِمِثْلِ هَـٰذَا فَلْيَعْمَلِ ٱلْعَـٰمِلُونَ
এরূপ সাফল্যের জন্যই ‘আমলকারীদের আমল করা উচিত।
أَذَٰلِكَ خَيْرٌ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ
আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কূম* বৃক্ষ? * অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।
إِنَّا جَعَلْنَـٰهَا فِتْنَةً لِّلظَّـٰلِمِينَ
নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা।
إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِىٓ أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ
নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়।
طَلْعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَـٰطِينِ
এর ফল যেন শয়তানের মাথা;
فَإِنَّهُمْ لَـَٔاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ
নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى ٱلْجَحِيمِ
তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে।
إِنَّهُمْ أَلْفَوْا۟ ءَابَآءَهُمْ ضَآلِّينَ
নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;
فَهُمْ عَلَىٰٓ ءَاثَـٰرِهِمْ يُهْرَعُونَ
ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে।
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ ٱلْأَوَّلِينَ
আর নিশ্চয় এদের পূর্বে প্রাথমিক যুগের মানুষের বেশীরভাগই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ
আর অবশ্যই তাদের কাছে আমি সতর্ককারীদেরকে পাঠিয়েছিলাম;
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ
সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল!
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া।
وَلَقَدْ نَادَىٰنَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ ٱلْمُجِيبُونَ
আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী!
وَنَجَّيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
আর তাকে ও তার পরিজনকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلْبَاقِينَ
আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম,
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ
আর পরবর্তীদের মধ্যে তার জন্য (সুখ্যাতি) রেখে দিয়েছিলাম।
سَلَـٰمٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِى ٱلْعَـٰلَمِينَ
শান্তি বর্ষিত হোক নূহের উপর সকল সৃষ্টির মধ্যে।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় এভাবে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার মুমিন বান্দাদের একজন।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْـَٔاخَرِينَ
তারপর আমি অন্যদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
۞ وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبْرَٰهِيمَ
আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।
إِذْ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
যখন সে বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَاذَا تَعْبُدُونَ
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর’?
أَئِفْكًا ءَالِهَةً دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ
‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যগুলোকে চাও’?
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
‘তাহলে সকল সৃষ্টির রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী’?
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِى ٱلنُّجُومِ
অতঃপর সে তারকারাজির মধ্যে একবার দৃষ্টি দিল।
فَقَالَ إِنِّى سَقِيمٌ
তারপর বলল, ‘আমি তো অসুস্থ’।
فَتَوَلَّوْا۟ عَنْهُ مُدْبِرِينَ
অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে তার কাছ থেকে চলে গেল।
فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
তারপর চুপে চুপে সে তাদের দেবতাদের কাছে গেল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ
‘তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কথা বলছ না’?
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًۢا بِٱلْيَمِينِ
অতঃপর সে তাদের উপর সজোরে আঘাত হানল।
فَأَقْبَلُوٓا۟ إِلَيْهِ يَزِفُّونَ
তখন লোকেরা তার দিকে ছুটে আসল।
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ
সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা খোদাই করে যেগুলো বানাও, তোমরা কি সেগুলোর উপাসনা কর’,
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ
‘অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন’?
قَالُوا۟ ٱبْنُوا۟ لَهُۥ بُنْيَـٰنًا فَأَلْقُوهُ فِى ٱلْجَحِيمِ
তারা বলল, ‘তার জন্য একটি স্থাপনা তৈরী কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর’।
فَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًا فَجَعَلْنَـٰهُمُ ٱلْأَسْفَلِينَ
আর তারা তার ব্যাপারে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সম্পূর্ণ পরাভূত করে দিলাম।
وَقَالَ إِنِّى ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّى سَيَهْدِينِ
আর সে বলল, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি অবশ্যই আমাকে হিদায়াত করবেন।
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ
‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’।
فَبَشَّرْنَـٰهُ بِغُلَـٰمٍ حَلِيمٍ
অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَـٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَـٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّـٰبِرِينَ
অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন’।
فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ
অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে* কাত করে শুইয়ে দিল * ইসমাঈলকে
وَنَـٰدَيْنَـٰهُ أَن يَـٰٓإِبْرَٰهِيمُ
তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম,
قَدْ صَدَّقْتَ ٱلرُّءْيَآ ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’।
إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلْبَلَـٰٓؤُا۟ ٱلْمُبِينُ
‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’।
وَفَدَيْنَـٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
আর আমি এক মহান যবেহের* বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। * তা ছিল একটি জান্নাতী দুম্বা।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ
আর তার জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
سَلَـٰمٌ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ
ইবরাহীমের প্রতি সালাম।
كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَبَشَّرْنَـٰهُ بِإِسْحَـٰقَ نَبِيًّا مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ
আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছিলাম, সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী হিসেবে,
وَبَـٰرَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰٓ إِسْحَـٰقَ ۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ مُبِينٌ
আর আমি তাকে ও ইসহাককে বরকত দান করেছিলাম, আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল সৎকর্মশীল এবং কেউ নিজের প্রতি স্পষ্ট যালিম।
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ
আর আমি নিশ্চয় হারূন ও মূসার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম,
وَنَجَّيْنَـٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
আর আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে নাজাত দিয়েছিলাম।
وَنَصَرْنَـٰهُمْ فَكَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَـٰلِبِينَ
আর আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
وَءَاتَيْنَـٰهُمَا ٱلْكِتَـٰبَ ٱلْمُسْتَبِينَ
আর আমি উভয়কে সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছিলাম।
وَهَدَيْنَـٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ
আর আমি দু’জনকেই সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ
আর আমি তাদের জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
سَلَـٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় তারা দু’জনই ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
আর ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ
যখন সে তার কওমকে বলেছিল ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না’?
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ ٱلْخَـٰلِقِينَ
তোমরা কি ‘বা’ল’ কে* ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা- * بعل একটি দেবতার নাম, যার উপাসনা তারা করত।
ٱللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ
আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও রব’?
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদেরকে অবশ্যই (আযাবের জন্য) উপস্থিত করা হবে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া ।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ
আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
سَلَـٰمٌ عَلَىٰٓ إِلْ يَاسِينَ
ইলইয়াসের প্রতি সালাম।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় লূতও ছিল রাসূলদেরই একজন।
إِذْ نَجَّيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
যখন আমি তাকে ও তার পরিবার পরিজন সকলকে নাজাত দিয়েছিলাম-
إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَـٰبِرِينَ
পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া ।
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْـَٔاخَرِينَ
অতঃপর আমি অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ
আর তোমরা নিশ্চয় তাদের (ধ্বংসাবশেষের) উপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক সকালে-
وَبِٱلَّيْلِ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
ও রাতে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
إِذْ أَبَقَ إِلَى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلْمُدْحَضِينَ
অতঃপর সে লটারীতে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে সে হেরে গেল।
فَٱلْتَقَمَهُ ٱلْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
তারপর বড় মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিচ্ছিল।
فَلَوْلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُسَبِّحِينَ
আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত,
لَلَبِثَ فِى بَطْنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।
۞ فَنَبَذْنَـٰهُ بِٱلْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।
وَأَنۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
আর আমি একটি ইয়াকতীন* গাছ তার উপর উদগত করলাম। * শসা, কাঁকড় ও লাউ জাতীয় গাছকে ইয়কতীন বলে। যা কান্ডের উপর দাঁড়াতে পারে না। তার জন্য মাচা তৈরী করতে হয়।
وَأَرْسَلْنَـٰهُ إِلَىٰ مِا۟ئَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
এবং তাকে আমি এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশী লোকের কাছে পাঠালাম।
فَـَٔامَنُوا۟ فَمَتَّعْنَـٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
অতঃপর তারা ঈমান আনল, ফলে আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত উপভোগ করতে দিলাম।
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ
অতএব তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান’?
أَمْ خَلَقْنَا ٱلْمَلَـٰٓئِكَةَ إِنَـٰثًا وَهُمْ شَـٰهِدُونَ
অথবা আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?
أَلَآ إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ
জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَـٰذِبُونَ
‘আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ আর তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
أَصْطَفَى ٱلْبَنَاتِ عَلَى ٱلْبَنِينَ
তিনি কি পুত্রসন্তানদের উপর কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ!
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
أَمْ لَكُمْ سُلْطَـٰنٌ مُّبِينٌ
নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলীল- প্রমাণ আছে?
فَأْتُوا۟ بِكِتَـٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
অতএব তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আস।
وَجَعَلُوا۟ بَيْنَهُۥ وَبَيْنَ ٱلْجِنَّةِ نَسَبًا ۚ وَلَقَدْ عَلِمَتِ ٱلْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
আর তারা আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।
سُبْحَـٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
আল্লাহ সে সব থেকে অতিপবিত্র ও মহান, যা তারা আরোপ করে,
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তবে আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) নির্বাচিত বান্দাগণ ছাড়া।
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ
নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদাত কর তারা-
مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَـٰتِنِينَ
তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে (মুমিনদের) কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ ٱلْجَحِيمِ
জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী ছাড়া।
وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
আমাদের* প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিতস্থান** রয়েছে। *এটা ফেরেশতাদের বক্তব্য।
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلصَّآفُّونَ
আর অবশ্যই আমরা সারিবদ্ধ ।
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلْمُسَبِّحُونَ
আর আমরা অবশ্যই তাসবীহ পাঠকারী।
وَإِن كَانُوا۟ لَيَقُولُونَ
আর তারা (মক্কাবাসীরা) বলত,
لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًا مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
‘যদি আমাদের কাছে পূর্বর্তীদের মত কোন উপদেশ (কিতাব) থাকত,
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম’।
فَكَفَرُوا۟ بِهِۦ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
إِنَّهُمْ لَهُمُ ٱلْمَنصُورُونَ
‘অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে’।
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلْغَـٰلِبُونَ
আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
অতএব কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম) ।
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
তারা কি আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلْمُنذَرِينَ
আর যখন তা তাদের আঙিনায় নেমে আসবে তখন সতর্ককৃতদের সকাল কতই না মন্দ হবে!
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
আরো কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম)।
سُبْحَـٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।
وَسَلَـٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ
আর রাসূলদের প্রতি সালাম।
وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।