Those drawn up in Ranks

As-Saaffaat

سورة الصافات

182 আয়াত · মক্কী

আয়াত 1

وَٱلصَّـٰٓفَّـٰتِ صَفًّا

কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,

আয়াত 2

فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًا

অতঃপর (মেঘমালা) সুচারুরূপে পরিচালনাকারীদের,

আয়াত 3

فَٱلتَّـٰلِيَـٰتِ ذِكْرًا

আর উপদেশ গ্রন্থ (আসমানী কিতাব) তিলাওয়াতকারীদের;

আয়াত 4

إِنَّ إِلَـٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌ

নিশ্চয় তোমাদের ইলাহ এক;

আয়াত 5

رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَـٰرِقِ

তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং রব উদয়স্থলসমূহের।

আয়াত 6

إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ

নিশ্চয় আমি কাছের আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি।

আয়াত 7

وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَـٰنٍ مَّارِدٍ

আর প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে হিফাযত করেছি।

আয়াত 8

لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ

তারা ঊর্ধ্বজগতের কিছু শুনতে পারে না, কারণ প্রত্যেক দিক থেকে তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড)।

আয়াত 9

دُحُورًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ

তাড়ানোর জন্য, আর তাদের জন্য আছে অব্যাহত আযাব।

আয়াত 10

إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ ثَاقِبٌ

তবে কেউ সন্তর্পণে কিছু শুনে নিলে তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড।

আয়াত 11

فَٱسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَآ ۚ إِنَّا خَلَقْنَـٰهُم مِّن طِينٍ لَّازِبٍۭ

অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা’? নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।

আয়াত 12

بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ

বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছ আর ওরা বিদ্রূপ করছে।

আয়াত 13

وَإِذَا ذُكِّرُوا۟ لَا يَذْكُرُونَ

আর যখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা স্মরণ করে না।

আয়াত 14

وَإِذَا رَأَوْا۟ ءَايَةً يَسْتَسْخِرُونَ

আর যখন তারা কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।

আয়াত 15

وَقَالُوٓا۟ إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ

আর বলে, ‘এতো স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’!

আয়াত 16

أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَـٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ

‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব’?

আয়াত 17

أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ

‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও’?

আয়াত 18

قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ

বল, ‘হ্যাঁ, আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’

আয়াত 19

فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ

তা হবে কেবল এক আওয়াজ আর তৎক্ষণাৎ তারা দেখতে পাবে।

আয়াত 20

وَقَالُوا۟ يَـٰوَيْلَنَا هَـٰذَا يَوْمُ ٱلدِّينِ

আর তারা বলবে, ‘হায় আমাদের ধ্বংস, এ তো প্রতিদান দিবস’!

আয়াত 21

هَـٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ

এটি ফয়সালা করার দিন যা তোমরা অস্বীকার করতে।

আয়াত 22

۞ ٱحْشُرُوا۟ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ وَأَزْوَٰجَهُمْ وَمَا كَانُوا۟ يَعْبُدُونَ

(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে।

আয়াত 23

مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْجَحِيمِ

‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তাদেরকে আগুনের পথে নিয়ে যাও’।

আয়াত 24

وَقِفُوهُمْ ۖ إِنَّهُم مَّسْـُٔولُونَ

‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে’।

আয়াত 25

مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ

‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’

আয়াত 26

بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ

বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।

আয়াত 27

وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ

আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,

আয়াত 28

قَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ

তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।* * এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।

আয়াত 29

قَالُوا۟ بَل لَّمْ تَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ

জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, ‘বরং তোমরা তো মুমিন ছিলে না’।

আয়াত 30

وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَـٰنٍۭ ۖ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَـٰغِينَ

আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।

আয়াত 31

فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآ ۖ إِنَّا لَذَآئِقُونَ

‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)’।

আয়াত 32

فَأَغْوَيْنَـٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَـٰوِينَ

‘আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত’।

আয়াত 33

فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ

নিশ্চয় তারা সেদিন আযাবে অংশীদার হবে।

আয়াত 34

إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ

অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।

আয়াত 35

إِنَّهُمْ كَانُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ

তাদেরকে যখন বলা হত, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত।

আয়াত 36

وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍۭ

আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’

আয়াত 37

بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ

বরং সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল।

আয়াত 38

إِنَّكُمْ لَذَآئِقُوا۟ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ

অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করবে।

আয়াত 39

وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

আর তোমরা যে আমল করতে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।

আয়াত 40

إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ

অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া;

আয়াত 41

أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ

তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিয্ক,

আয়াত 42

فَوَٰكِهُ ۖ وَهُم مُّكْرَمُونَ

ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত,

আয়াত 43

فِى جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِيمِ

নি‘আমত-ভরা জান্নাতে,

আয়াত 44

عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَـٰبِلِينَ

মুখোমুখি পালঙ্কে।

আয়াত 45

يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍۭ

তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র,

আয়াত 46

بَيْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشَّـٰرِبِينَ

সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।

আয়াত 47

لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ

তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু* এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। * غول অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।

আয়াত 48

وَعِندَهُمْ قَـٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌ

তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।

আয়াত 49

كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ

তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম।

আয়াত 50

فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ

অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে।

আয়াত 51

قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌ

তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,

আয়াত 52

يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُصَدِّقِينَ

সে বলত, ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে’।

আয়াত 53

أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَـٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ

‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে’?

আয়াত 54

قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ

আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?’

আয়াত 55

فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِى سَوَآءِ ٱلْجَحِيمِ

অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।

আয়াত 56

قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ

সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে’।

আয়াত 57

وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ

‘আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম’।

আয়াত 58

أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ

(জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) ‘তাহলে আমরা কি আর মরব না’?

আয়াত 59

إِلَّا مَوْتَتَنَا ٱلْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ

‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না’?

আয়াত 60

إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

‘নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!’

আয়াত 61

لِمِثْلِ هَـٰذَا فَلْيَعْمَلِ ٱلْعَـٰمِلُونَ

এরূপ সাফল্যের জন্যই ‘আমলকারীদের আমল করা উচিত।

আয়াত 62

أَذَٰلِكَ خَيْرٌ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ

আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কূম* বৃক্ষ? * অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।

আয়াত 63

إِنَّا جَعَلْنَـٰهَا فِتْنَةً لِّلظَّـٰلِمِينَ

নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা।

আয়াত 64

إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِىٓ أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ

নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়।

আয়াত 65

طَلْعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَـٰطِينِ

এর ফল যেন শয়তানের মাথা;

আয়াত 66

فَإِنَّهُمْ لَـَٔاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ

নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।

আয়াত 67

ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ

তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।

আয়াত 68

ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى ٱلْجَحِيمِ

তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে।

আয়াত 69

إِنَّهُمْ أَلْفَوْا۟ ءَابَآءَهُمْ ضَآلِّينَ

নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;

আয়াত 70

فَهُمْ عَلَىٰٓ ءَاثَـٰرِهِمْ يُهْرَعُونَ

ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে।

আয়াত 71

وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ ٱلْأَوَّلِينَ

আর নিশ্চয় এদের পূর্বে প্রাথমিক যুগের মানুষের বেশীরভাগই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।

আয়াত 72

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ

আর অবশ্যই তাদের কাছে আমি সতর্ককারীদেরকে পাঠিয়েছিলাম;

আয়াত 73

فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ

সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল!

আয়াত 74

إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ

অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া।

আয়াত 75

وَلَقَدْ نَادَىٰنَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ ٱلْمُجِيبُونَ

আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী!

আয়াত 76

وَنَجَّيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ

আর তাকে ও তার পরিজনকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।

আয়াত 77

وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلْبَاقِينَ

আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম,

আয়াত 78

وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ

আর পরবর্তীদের মধ্যে তার জন্য (সুখ্যাতি) রেখে দিয়েছিলাম।

আয়াত 79

سَلَـٰمٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِى ٱلْعَـٰلَمِينَ

শান্তি বর্ষিত হোক নূহের উপর সকল সৃষ্টির মধ্যে।

আয়াত 80

إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ

নিশ্চয় এভাবে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

আয়াত 81

إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ

নিশ্চয় সে আমার মুমিন বান্দাদের একজন।

আয়াত 82

ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْـَٔاخَرِينَ

তারপর আমি অন্যদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।

আয়াত 83

۞ وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبْرَٰهِيمَ

আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আয়াত 84

إِذْ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ

যখন সে বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।

আয়াত 85

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَاذَا تَعْبُدُونَ

যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর’?

আয়াত 86

أَئِفْكًا ءَالِهَةً دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ

‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যগুলোকে চাও’?

আয়াত 87

فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ

‘তাহলে সকল সৃষ্টির রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী’?

আয়াত 88

فَنَظَرَ نَظْرَةً فِى ٱلنُّجُومِ

অতঃপর সে তারকারাজির মধ্যে একবার দৃষ্টি দিল।

আয়াত 89

فَقَالَ إِنِّى سَقِيمٌ

তারপর বলল, ‘আমি তো অসুস্থ’।

আয়াত 90

فَتَوَلَّوْا۟ عَنْهُ مُدْبِرِينَ

অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে তার কাছ থেকে চলে গেল।

আয়াত 91

فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ

তারপর চুপে চুপে সে তাদের দেবতাদের কাছে গেল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’

আয়াত 92

مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ

‘তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কথা বলছ না’?

আয়াত 93

فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًۢا بِٱلْيَمِينِ

অতঃপর সে তাদের উপর সজোরে আঘাত হানল।

আয়াত 94

فَأَقْبَلُوٓا۟ إِلَيْهِ يَزِفُّونَ

তখন লোকেরা তার দিকে ছুটে আসল।

আয়াত 95

قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ

সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা খোদাই করে যেগুলো বানাও, তোমরা কি সেগুলোর উপাসনা কর’,

আয়াত 96

وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ

‘অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন’?

আয়াত 97

قَالُوا۟ ٱبْنُوا۟ لَهُۥ بُنْيَـٰنًا فَأَلْقُوهُ فِى ٱلْجَحِيمِ

তারা বলল, ‘তার জন্য একটি স্থাপনা তৈরী কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর’।

আয়াত 98

فَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًا فَجَعَلْنَـٰهُمُ ٱلْأَسْفَلِينَ

আর তারা তার ব্যাপারে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সম্পূর্ণ পরাভূত করে দিলাম।

আয়াত 99

وَقَالَ إِنِّى ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّى سَيَهْدِينِ

আর সে বলল, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি অবশ্যই আমাকে হিদায়াত করবেন।

আয়াত 100

رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ

‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’।

আয়াত 101

فَبَشَّرْنَـٰهُ بِغُلَـٰمٍ حَلِيمٍ

অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।

আয়াত 102

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَـٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَـٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন’।

আয়াত 103

فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ

অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে* কাত করে শুইয়ে দিল * ইসমাঈলকে

আয়াত 104

وَنَـٰدَيْنَـٰهُ أَن يَـٰٓإِبْرَٰهِيمُ

তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম,

আয়াত 105

قَدْ صَدَّقْتَ ٱلرُّءْيَآ ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ

‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’।

আয়াত 106

إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلْبَلَـٰٓؤُا۟ ٱلْمُبِينُ

‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’।

আয়াত 107

وَفَدَيْنَـٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ

আর আমি এক মহান যবেহের* বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। * তা ছিল একটি জান্নাতী দুম্বা।

আয়াত 108

وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ

আর তার জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।

আয়াত 109

سَلَـٰمٌ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ

ইবরাহীমের প্রতি সালাম।

আয়াত 110

كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ

এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।

আয়াত 111

إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ

নিশ্চয় সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

আয়াত 112

وَبَشَّرْنَـٰهُ بِإِسْحَـٰقَ نَبِيًّا مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ

আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছিলাম, সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী হিসেবে,

আয়াত 113

وَبَـٰرَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰٓ إِسْحَـٰقَ ۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ مُبِينٌ

আর আমি তাকে ও ইসহাককে বরকত দান করেছিলাম, আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল সৎকর্মশীল এবং কেউ নিজের প্রতি স্পষ্ট যালিম।

আয়াত 114

وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ

আর আমি নিশ্চয় হারূন ও মূসার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম,

আয়াত 115

وَنَجَّيْنَـٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ

আর আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে নাজাত দিয়েছিলাম।

আয়াত 116

وَنَصَرْنَـٰهُمْ فَكَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَـٰلِبِينَ

আর আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।

আয়াত 117

وَءَاتَيْنَـٰهُمَا ٱلْكِتَـٰبَ ٱلْمُسْتَبِينَ

আর আমি উভয়কে সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছিলাম।

আয়াত 118

وَهَدَيْنَـٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ

আর আমি দু’জনকেই সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।

আয়াত 119

وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ

আর আমি তাদের জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।

আয়াত 120

سَلَـٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ

মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম।

আয়াত 121

إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ

আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।

আয়াত 122

إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ

নিশ্চয় তারা দু’জনই ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

আয়াত 123

وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

আর ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।

আয়াত 124

إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ

যখন সে তার কওমকে বলেছিল ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না’?

আয়াত 125

أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ ٱلْخَـٰلِقِينَ

তোমরা কি ‘বা’ল’ কে* ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা- * بعل একটি দেবতার নাম, যার উপাসনা তারা করত।

আয়াত 126

ٱللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ

আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও রব’?

আয়াত 127

فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ

কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদেরকে অবশ্যই (আযাবের জন্য) উপস্থিত করা হবে।

আয়াত 128

إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ

আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া ।

আয়াত 129

وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْـَٔاخِرِينَ

আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।

আয়াত 130

سَلَـٰمٌ عَلَىٰٓ إِلْ يَاسِينَ

ইলইয়াসের প্রতি সালাম।

আয়াত 131

إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ

নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।

আয়াত 132

إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ

নিশ্চয় সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

আয়াত 133

وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

আর নিশ্চয় লূতও ছিল রাসূলদেরই একজন।

আয়াত 134

إِذْ نَجَّيْنَـٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ

যখন আমি তাকে ও তার পরিবার পরিজন সকলকে নাজাত দিয়েছিলাম-

আয়াত 135

إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَـٰبِرِينَ

পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া ।

আয়াত 136

ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْـَٔاخَرِينَ

অতঃপর আমি অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

আয়াত 137

وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ

আর তোমরা নিশ্চয় তাদের (ধ্বংসাবশেষের) উপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক সকালে-

আয়াত 138

وَبِٱلَّيْلِ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

ও রাতে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?

আয়াত 139

وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

আর নিশ্চয় ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।

আয়াত 140

إِذْ أَبَقَ إِلَى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ

যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।

আয়াত 141

فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلْمُدْحَضِينَ

অতঃপর সে লটারীতে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে সে হেরে গেল।

আয়াত 142

فَٱلْتَقَمَهُ ٱلْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ

তারপর বড় মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিচ্ছিল।

আয়াত 143

فَلَوْلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُسَبِّحِينَ

আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত,

আয়াত 144

لَلَبِثَ فِى بَطْنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ

তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।

আয়াত 145

۞ فَنَبَذْنَـٰهُ بِٱلْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٌ

অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।

আয়াত 146

وَأَنۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ

আর আমি একটি ইয়াকতীন* গাছ তার উপর উদগত করলাম। * শসা, কাঁকড় ও লাউ জাতীয় গাছকে ইয়কতীন বলে। যা কান্ডের উপর দাঁড়াতে পারে না। তার জন্য মাচা তৈরী করতে হয়।

আয়াত 147

وَأَرْسَلْنَـٰهُ إِلَىٰ مِا۟ئَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ

এবং তাকে আমি এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশী লোকের কাছে পাঠালাম।

আয়াত 148

فَـَٔامَنُوا۟ فَمَتَّعْنَـٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍ

অতঃপর তারা ঈমান আনল, ফলে আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত উপভোগ করতে দিলাম।

আয়াত 149

فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ

অতএব তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান’?

আয়াত 150

أَمْ خَلَقْنَا ٱلْمَلَـٰٓئِكَةَ إِنَـٰثًا وَهُمْ شَـٰهِدُونَ

অথবা আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?

আয়াত 151

أَلَآ إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ

জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,

আয়াত 152

وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَـٰذِبُونَ

‘আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ আর তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

আয়াত 153

أَصْطَفَى ٱلْبَنَاتِ عَلَى ٱلْبَنِينَ

তিনি কি পুত্রসন্তানদের উপর কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?

আয়াত 154

مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ

তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ!

আয়াত 155

أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

আয়াত 156

أَمْ لَكُمْ سُلْطَـٰنٌ مُّبِينٌ

নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলীল- প্রমাণ আছে?

আয়াত 157

فَأْتُوا۟ بِكِتَـٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ

অতএব তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আস।

আয়াত 158

وَجَعَلُوا۟ بَيْنَهُۥ وَبَيْنَ ٱلْجِنَّةِ نَسَبًا ۚ وَلَقَدْ عَلِمَتِ ٱلْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ

আর তারা আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।

আয়াত 159

سُبْحَـٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ

আল্লাহ সে সব থেকে অতিপবিত্র ও মহান, যা তারা আরোপ করে,

আয়াত 160

إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ

তবে আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) নির্বাচিত বান্দাগণ ছাড়া।

আয়াত 161

فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ

নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদাত কর তারা-

আয়াত 162

مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَـٰتِنِينَ

তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে (মুমিনদের) কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

আয়াত 163

إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ ٱلْجَحِيمِ

জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী ছাড়া।

আয়াত 164

وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ

আমাদের* প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিতস্থান** রয়েছে। *এটা ফেরেশতাদের বক্তব্য।

আয়াত 165

وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلصَّآفُّونَ

আর অবশ্যই আমরা সারিবদ্ধ ।

আয়াত 166

وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلْمُسَبِّحُونَ

আর আমরা অবশ্যই তাসবীহ পাঠকারী।

আয়াত 167

وَإِن كَانُوا۟ لَيَقُولُونَ

আর তারা (মক্কাবাসীরা) বলত,

আয়াত 168

لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًا مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ

‘যদি আমাদের কাছে পূর্বর্তীদের মত কোন উপদেশ (কিতাব) থাকত,

আয়াত 169

لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ

তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম’।

আয়াত 170

فَكَفَرُوا۟ بِهِۦ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ

অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।

আয়াত 171

وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ

আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,

আয়াত 172

إِنَّهُمْ لَهُمُ ٱلْمَنصُورُونَ

‘অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে’।

আয়াত 173

وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلْغَـٰلِبُونَ

আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।

আয়াত 174

فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ

অতএব কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।

আয়াত 175

وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ

আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম) ।

আয়াত 176

أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ

তারা কি আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?

আয়াত 177

فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلْمُنذَرِينَ

আর যখন তা তাদের আঙিনায় নেমে আসবে তখন সতর্ককৃতদের সকাল কতই না মন্দ হবে!

আয়াত 178

وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ

আরো কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।

আয়াত 179

وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ

আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম)।

আয়াত 180

سُبْحَـٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ

তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।

আয়াত 181

وَسَلَـٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ

আর রাসূলদের প্রতি সালাম।

আয়াত 182

وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ

আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।