ٱلْحَآقَّةُ
অবশ্যম্ভাবী ঘটনা (কিয়ামত)।
The Reality
سورة الحاقة
52 আয়াত · মক্কী
ٱلْحَآقَّةُ
অবশ্যম্ভাবী ঘটনা (কিয়ামত)।
مَا ٱلْحَآقَّةُ
অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحَآقَّةُ
আর কিসে তোমাকে জানাবে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?
كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌۢ بِٱلْقَارِعَةِ
সামূদ ও ‘আদ সম্প্রদায় সজোরে আঘাতকারী (কিয়ামত)কে অস্বীকার করেছিল।
فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا۟ بِٱلطَّاغِيَةِ
আর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল।
وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا۟ بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ
আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঠান্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা।
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَـٰنِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى ٱلْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَىٰ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ
তিনি তাদের উপর তা সাত রাত ও আট দিন বিরামহীনভাবে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে যেন তারা সারশূন্য খেজুর গাছের মত।
فَهَلْ تَرَىٰ لَهُم مِّنۢ بَاقِيَةٍ
তারপর তুমি কি তাদের জন্য কোন অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও?
وَجَآءَ فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُۥ وَٱلْمُؤْتَفِكَـٰتُ بِٱلْخَاطِئَةِ
আর ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল।
فَعَصَوْا۟ رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَّابِيَةً
আর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল। সুতরাং তিনি তাদেরকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।
إِنَّا لَمَّا طَغَا ٱلْمَآءُ حَمَلْنَـٰكُمْ فِى ٱلْجَارِيَةِ
যখন জলোচ্ছ্বাস হল, অবশ্যই তখন আমি তোমাদেরকে নৌযানে আরোহণ করিয়েছি।
لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَآ أُذُنٌ وَٰعِيَةٌ
একে তোমাদের নিমিত্তে উপদেশ বানানোর জন্য এবং সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করার জন্য।
فَإِذَا نُفِخَ فِى ٱلصُّورِ نَفْخَةٌ وَٰحِدَةٌ
অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুঁক।
وَحُمِلَتِ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَٰحِدَةً
আর যমীন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
ফলে সে দিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে।
وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَهِىَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত।
وَٱلْمَلَكُ عَلَىٰٓ أَرْجَآئِهَا ۚ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَـٰنِيَةٌ
ফেরেশতাগণ আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।
يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَىٰ مِنكُمْ خَافِيَةٌ
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না।
فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَـٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقْرَءُوا۟ كِتَـٰبِيَهْ
তখন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ’।
إِنِّى ظَنَنتُ أَنِّى مُلَـٰقٍ حِسَابِيَهْ
‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হব’।
فَهُوَ فِى عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
সুতরাং সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে।
فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
সুউচ্চ জান্নাতে,
قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ
তার ফলসমূহ নিকটবর্তী থাকবে।
كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ هَنِيٓـًٔۢا بِمَآ أَسْلَفْتُمْ فِى ٱلْأَيَّامِ ٱلْخَالِيَةِ
(বলা হবে,) ‘বিগত দিনসমূহে তোমরা যা অগ্রে প্রেরণ করেছ তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর’।
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَـٰبَهُۥ بِشِمَالِهِۦ فَيَقُولُ يَـٰلَيْتَنِى لَمْ أُوتَ كِتَـٰبِيَهْ
কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘হায়, আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত’!
وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ
‘আর যদি আমি না জানতাম আমার হিসাব’!
يَـٰلَيْتَهَا كَانَتِ ٱلْقَاضِيَةَ
‘হায়, মৃত্যুই যদি আমার চূড়ান্ত ফয়সালা হত’!
مَآ أَغْنَىٰ عَنِّى مَالِيَهْ ۜ
‘আমার সম্পদ আমার কোন কাজেই আসল না!’
هَلَكَ عَنِّى سُلْطَـٰنِيَهْ
‘আমার ক্ষমতাও আমার থেকে চলে গেল!
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
(বলা হবে,) ‘তাকে ধর অতঃপর তাকে বেড়ি পরিয়ে দাও।’
ثُمَّ ٱلْجَحِيمَ صَلُّوهُ
‘তারপর তাকে তোমরা নিক্ষেপ কর জাহান্নামে’।
ثُمَّ فِى سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَٱسْلُكُوهُ
‘তারপর তাকে বাঁধ এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত।’
إِنَّهُۥ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ ٱلْعَظِيمِ
সে তো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না,
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ
আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না।
فَلَيْسَ لَهُ ٱلْيَوْمَ هَـٰهُنَا حَمِيمٌ
অতএব আজ এখানে তার কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না।
وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ
আর ক্ষত-নিংসৃত পূঁজ ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না,
لَّا يَأْكُلُهُۥٓ إِلَّا ٱلْخَـٰطِـُٔونَ
অপরাধীরাই শুধু তা খাবে।
فَلَآ أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ
অতএব তোমরা যা দেখছ, আমি তার কসম করছি।
وَمَا لَا تُبْصِرُونَ
আর যা তোমরা দেখছ না তারও,
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ
নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী।
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ ۚ قَلِيلًا مَّا تُؤْمِنُونَ
আর এটি কোন কবির কথা নয়। তোমরা কমই বিশ্বাস কর।
وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
আর কোন গণকের কথাও নয়। তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ কর।
تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
এটি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ ٱلْأَقَاوِيلِ
যদি সে আমার নামে কোন মিথ্যা রচনা করত,
لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِٱلْيَمِينِ
তবে আমি তার ডান হাত পাকড়াও করতাম।
ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ ٱلْوَتِينَ
তারপর অবশ্যই আমি তার হৃদপিন্ডের শিরা কেটে ফেলতাম।
فَمَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَـٰجِزِينَ
অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করার থাকত না।
وَإِنَّهُۥ لَتَذْكِرَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ
আর এটিতো মুত্তাকীদের জন্য এক নিশ্চিত উপদেশ।
وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ
আর আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কতক রয়েছে মিথ্যারোপকারী।
وَإِنَّهُۥ لَحَسْرَةٌ عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ
আর এটি নিশ্চয় কাফিরদের জন্য এক নিশ্চিত অনুশোচনার কারণ।
وَإِنَّهُۥ لَحَقُّ ٱلْيَقِينِ
আর নিশ্চয় এটি সুনিশ্চিত সত্য।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ
অতএব তুমি তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।