The Cloaked One

Al-Muddaththir

سورة المدثر

56 আয়াত · মক্কী

আয়াত 1

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمُدَّثِّرُ

হে বস্ত্রাবৃত!

আয়াত 2

قُمْ فَأَنذِرْ

উঠ, অতঃপর সতর্ক কর।

আয়াত 3

وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ

আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

আয়াত 4

وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ

আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর।

আয়াত 5

وَٱلرُّجْزَ فَٱهْجُرْ

আর অপবিত্রতা বর্জন কর।

আয়াত 6

وَلَا تَمْنُن تَسْتَكْثِرُ

আর অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না।

আয়াত 7

وَلِرَبِّكَ فَٱصْبِرْ

আর তোমার রবের জন্যই ধৈর্যধারণ কর।

আয়াত 8

فَإِذَا نُقِرَ فِى ٱلنَّاقُورِ

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে,

আয়াত 9

فَذَٰلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمٌ عَسِيرٌ

আর সেদিন হবে কঠিন দিন।

আয়াত 10

عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ غَيْرُ يَسِيرٍ

কাফিরদের জন্য সহজ নয়।

আয়াত 11

ذَرْنِى وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا

আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি তাকে একাকী ছেড়ে দাও।

আয়াত 12

وَجَعَلْتُ لَهُۥ مَالًا مَّمْدُودًا

আর আমি তাকে দিয়েছি অঢেল সম্পদ,

আয়াত 13

وَبَنِينَ شُهُودًا

আর উপস্থিত অনেক পুত্র।

আয়াত 14

وَمَهَّدتُّ لَهُۥ تَمْهِيدًا

আর তার জন্য (জীবনকে) সুগম স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছি।

আয়াত 15

ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ

এসবের পরেও সে আকাংখা করে যে, আমি আরো বাড়িয়ে দেই।

আয়াত 16

كَلَّآ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ لِـَٔايَـٰتِنَا عَنِيدًا

কখনো নয়, নিশ্চয় সে ছিল আমার নিদর্শনাবলীর বিরুদ্ধাচারী।

আয়াত 17

سَأُرْهِقُهُۥ صَعُودًا

অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের পিচ্ছিল পাথরে আরোহণ করতে বাধ্য করব।

আয়াত 18

إِنَّهُۥ فَكَّرَ وَقَدَّرَ

নিশ্চয় সে চিন্তা ভাবনা করল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

আয়াত 19

فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ

অতঃপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল?

আয়াত 20

ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ

তারপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল?

আয়াত 21

ثُمَّ نَظَرَ

তারপর সে তাকাল।

আয়াত 22

ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ

তারপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ বিকৃত করল।

আয়াত 23

ثُمَّ أَدْبَرَ وَٱسْتَكْبَرَ

তারপর সে পিছনে ফিরল এবং অহংকার করল।

আয়াত 24

فَقَالَ إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ

অতঃপর সে বলল, ‘এ তো লোক পরম্পরায়প্রাপ্ত যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’।

আয়াত 25

إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا قَوْلُ ٱلْبَشَرِ

‘এটা তো মানুষের কথামাত্র’।

আয়াত 26

سَأُصْلِيهِ سَقَرَ

অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাব।

আয়াত 27

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سَقَرُ

কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী?

আয়াত 28

لَا تُبْقِى وَلَا تَذَرُ

এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।

আয়াত 29

لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ

চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে।

আয়াত 30

عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ

তার উপর রয়েছে ঊনিশজন (প্রহরী)।

আয়াত 31

وَمَا جَعَلْنَآ أَصْحَـٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَـٰٓئِكَةً ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيَسْتَيْقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ وَيَزْدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِيمَـٰنًا ۙ وَلَا يَرْتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَٱلْكَـٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلًا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِىَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ

আর আমি ফেরেশতাদেরকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছি। আর কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ আমি তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে; আর মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায় এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা এবং অবশিষ্টরা বলে, এরূপ উপমা দ্বারা আল্লাহ কী ইচ্ছা করেছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন আর যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। আর এ হচ্ছে মানুষের জন্য উপদেশমাত্র।

আয়াত 32

كَلَّا وَٱلْقَمَرِ

কখনো নয়, চাঁদের কসম!

আয়াত 33

وَٱلَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ

রাতের কসম, যখন তা সরে চলে যায়,

আয়াত 34

وَٱلصُّبْحِ إِذَآ أَسْفَرَ

প্রভাতের কসম, যখন তা উদ্ভাসিত হয়।

আয়াত 35

إِنَّهَا لَإِحْدَى ٱلْكُبَرِ

নিশ্চয় জাহান্নাম মহাবিপদসমূহের অন্যতম।

আয়াত 36

نَذِيرًا لِّلْبَشَرِ

মানুষের জন্য সতর্ককারীস্বরূপ।

আয়াত 37

لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ

তোমাদের মধ্যে যে চায় অগ্রসর হতে অথবা পিছিয়ে থাকতে, তার জন্য।

আয়াত 38

كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ

প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ।

আয়াত 39

إِلَّآ أَصْحَـٰبَ ٱلْيَمِينِ

কিন্তু ডান দিকের লোকেরা নয়,

আয়াত 40

فِى جَنَّـٰتٍ يَتَسَآءَلُونَ

বাগ-বাগিচার মধ্যে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে,

আয়াত 41

عَنِ ٱلْمُجْرِمِينَ

অপরাধীদের সম্পর্কে,

আয়াত 42

مَا سَلَكَكُمْ فِى سَقَرَ

কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাল?

আয়াত 43

قَالُوا۟ لَمْ نَكُ مِنَ ٱلْمُصَلِّينَ

তারা বলবে, ‘আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না’।

আয়াত 44

وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ ٱلْمِسْكِينَ

‘আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না’।

আয়াত 45

وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلْخَآئِضِينَ

‘আর আমরা অনর্থক আলাপকারীদের সাথে (বেহুদা আলাপে) মগ্ন থাকতাম’।

আয়াত 46

وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ

‘আর আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম’।

আয়াত 47

حَتَّىٰٓ أَتَىٰنَا ٱلْيَقِينُ

'অবশেষে আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করে'।

আয়াত 48

فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَـٰعَةُ ٱلشَّـٰفِعِينَ

অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকার করবে না।

আয়াত 49

فَمَا لَهُمْ عَنِ ٱلتَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ

আর তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ বাণী হতে বিমুখ?

আয়াত 50

كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ

তারা যেন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়নরত বন্য গাধা।

আয়াত 51

فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍۭ

যারা সিংহের ভয়ে পলায়ন করেছে।

আয়াত 52

بَلْ يُرِيدُ كُلُّ ٱمْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَىٰ صُحُفًا مُّنَشَّرَةً

বরং তাদের মধ্যকার প্রত্যেক ব্যক্তিই কামনা করে যে তাকে উন্মুক্ত গ্রন্থ প্রদান করা হোক।

আয়াত 53

كَلَّا ۖ بَل لَّا يَخَافُونَ ٱلْـَٔاخِرَةَ

কখনও নয়! বরং তারা আখিরাতকে ভয় করে না।

আয়াত 54

كَلَّآ إِنَّهُۥ تَذْكِرَةٌ

কখনও নয়! এটিতো উপদেশ মাত্র।

আয়াত 55

فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ

অতএব যার ইচ্ছা সে তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।

আয়াত 56

وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ ۚ هُوَ أَهْلُ ٱلتَّقْوَىٰ وَأَهْلُ ٱلْمَغْفِرَةِ

আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।