Those who drag forth

An-Naazi'aat

سورة النازعات

46 আয়াত · মক্কী

আয়াত 1

وَٱلنَّـٰزِعَـٰتِ غَرْقًا

কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* * ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।

আয়াত 2

وَٱلنَّـٰشِطَـٰتِ نَشْطًا

আর কসম সহজভাবে বন্ধনমুক্তকারীদের।

আয়াত 3

وَٱلسَّـٰبِحَـٰتِ سَبْحًا

আর কসম দ্রুতগতিতে সন্তরণকারীদের।

আয়াত 4

فَٱلسَّـٰبِقَـٰتِ سَبْقًا

আর দ্রুতবেগে অগ্রসরমানদের।

আয়াত 5

فَٱلْمُدَبِّرَٰتِ أَمْرًا

অতঃপর কসম সকল কার্যনির্বাহকারীদের।

আয়াত 6

يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلرَّاجِفَةُ

সেদিন কম্পনকারী* প্রকম্পিত করবে। *অর্থাৎ প্রথম শিংগাধ্বনি।

আয়াত 7

تَتْبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ

তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী।* *দ্বিতীয় শিংগাধ্বনি।

আয়াত 8

قُلُوبٌ يَوْمَئِذٍ وَاجِفَةٌ

সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-সন্ত্রস্ত হবে।

আয়াত 9

أَبْصَـٰرُهَا خَـٰشِعَةٌ

তাদের দৃষ্টিসমূহ নত হবে।

আয়াত 10

يَقُولُونَ أَءِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِى ٱلْحَافِرَةِ

তারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই,

আয়াত 11

أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًا نَّخِرَةً

যখন আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হাড় হয়ে যাব’?

আয়াত 12

قَالُوا۟ تِلْكَ إِذًا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌ

তারা বলে, ‘তাহলে তা তো এক ক্ষতিকর প্রত্যাবর্তন’।

আয়াত 13

فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ

আর ওটা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ।

আয়াত 14

فَإِذَا هُم بِٱلسَّاهِرَةِ

তৎক্ষনাৎ তারা ভূ-পৃষ্ঠে উপস্থিত হবে।

আয়াত 15

هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ

মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?

আয়াত 16

إِذْ نَادَىٰهُ رَبُّهُۥ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًى

যখন তার রব তাকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় ডেকেছিলেন,

আয়াত 17

ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ

‘ফির‘আউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে’।

আয়াত 18

فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ

অতঃপর বল ‘তোমার কি ইচ্ছা আছে যে, তুমি পবিত্র হবে’?

আয়াত 19

وَأَهْدِيَكَ إِلَىٰ رَبِّكَ فَتَخْشَىٰ

‘আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’

আয়াত 20

فَأَرَىٰهُ ٱلْـَٔايَةَ ٱلْكُبْرَىٰ

অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল।

আয়াত 21

فَكَذَّبَ وَعَصَىٰ

কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং অমান্য করল।

আয়াত 22

ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَىٰ

তারপর সে ফাসাদ করার চেষ্টায় প্রস্থান করল।

আয়াত 23

فَحَشَرَ فَنَادَىٰ

অতঃপর সে লোকদেরকে একত্র করে ঘোষণা দিল।

আয়াত 24

فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلْأَعْلَىٰ

আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’।

আয়াত 25

فَأَخَذَهُ ٱللَّهُ نَكَالَ ٱلْـَٔاخِرَةِ وَٱلْأُولَىٰٓ

অবশেষে আল্লাহ তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন।

আয়াত 26

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّمَن يَخْشَىٰٓ

নিশ্চয় যে ভয় করে তার জন্য এতে শিক্ষা রয়েছে।

আয়াত 27

ءَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا

তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন।

আয়াত 28

رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا

তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন।

আয়াত 29

وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَىٰهَا

আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন।

আয়াত 30

وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ

এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।

আয়াত 31

أَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَمَرْعَىٰهَا

তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি।

আয়াত 32

وَٱلْجِبَالَ أَرْسَىٰهَا

আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আয়াত 33

مَتَـٰعًا لَّكُمْ وَلِأَنْعَـٰمِكُمْ

তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।

আয়াত 34

فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلْكُبْرَىٰ

অতঃপর যখন মহাপ্রলয় আসবে।

আয়াত 35

يَوْمَ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَـٰنُ مَا سَعَىٰ

সেদিন মানুষ স্মরণ করবে তা, যা সে চেষ্টা করেছে।

আয়াত 36

وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ

আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়।

আয়াত 37

فَأَمَّا مَن طَغَىٰ

সুতরাং যে সীমালঙ্ঘন করে।

আয়াত 38

وَءَاثَرَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا

আর দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়,

আয়াত 39

فَإِنَّ ٱلْجَحِيمَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ

নিশ্চয় জাহান্নাম হবে তার আবাসস্থল।

আয়াত 40

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفْسَ عَنِ ٱلْهَوَىٰ

আর যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজকে বিরত রাখে,

আয়াত 41

فَإِنَّ ٱلْجَنَّةَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ

নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।

আয়াত 42

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا

তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, ‘তা কখন ঘটবে’?

আয়াত 43

فِيمَ أَنتَ مِن ذِكْرَىٰهَآ

তা উল্লেখ করার কি জ্ঞান তোমার আছে?

আয়াত 44

إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ

এর প্রকৃত জ্ঞান তোমার রবের কাছেই।

আয়াত 45

إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخْشَىٰهَا

তুমিতো কেবল তাকেই সতর্ককারী, যে একে ভয় করে ।

আয়াত 46

كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَىٰهَا

যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (দুনিয়ায়) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশী অবস্থান করেনি।